
ঈদের বাজারে রক্তাক্ত শ্রীমঙ্গলতুচ্ছ ঘষা থেকে রণক্ষেত্র, দফায় দফায় সংঘর্ষে অচল শহর আতঙ্কে ব্যবসায়ী-সাধারণ মানুষ।
ঈদুল আজহার কেনাকাটায় মুখর ছিল পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল। সকাল থেকেই শহরের বিপণিবিতান, মার্কেট ও ফুটপাতজুড়ে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তবে একটি সিএনজি অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের সামান্য ঘষাকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হবিগঞ্জ রোড এলাকায় এ ঘটনা শুরু হয়। প্রথমে দুই চালকের বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি,পরে তা রূপ নেয় শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে। দুপুর গড়াতেই পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে চৌমুহনী, কলেজ রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায়।
দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া,লাঠিসোটা নিয়ে হামলা এবং সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত ৬ সাংবাদিক আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— আমজাদ হোসেন বাচ্চু, ইসমাইল মাহমুদ, এহসান বিন মুজাহির, এসকে দাশ সুমন, নূর মোহাম্মদ সাগর ও মো.আলামিন।
এছাড়াও বহু শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সময় আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। ঈদের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার সময়ে এই সহিংসতায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ,তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে বিকেলে উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
তবে সন্ধ্যার পরও শহরের বিভিন্ন এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— একটি সামান্য ঘটনা কীভাবে পুরো শহরকে রক্তাক্ত সংঘর্ষে ঠেলে দিল, আর এর দায় নেবে কে?
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply