
হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাসে যাত্রাবিরতি বন্ধ: শ্রীমঙ্গলে জনদুর্ভোগ, অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি
রূপক দত্ত চৌধরী,শ্রীমঙ্গল,মৌলভীবাজার
হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে চলাচলকারী ‘বিরতিহীন’ বাস সার্ভিসে শ্রীমঙ্গল শহরে যাত্রাবিরতি বন্ধ করে দেওয়ায় প্রবল জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও পর্যটকসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১২টায় শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের মৌলভীবাজার রোডস্থ গ্রেন্ড তাজ রেস্তোরাঁর সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে এই যাত্রাবিরতি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগীত শিল্পী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. তারেক ইকবাল চৌধুরী। তিনি জানান, ‘হবিগঞ্জ-সিলেট সড়কপথে শ্রীমঙ্গল একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। পূর্বে এই বিরতিহীন বাস সার্ভিস শ্রীমঙ্গল শহরে নিয়মিত যাত্রাবিরতি দিত, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ছিল। কিন্তু সম্প্রতি দুটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধের জের ধরে এই সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘দুটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক বিরোধের দায় কেন সাধারণ যাত্রীদের বহন করতে হবে? এই বিরোধের কারণে শ্রীমঙ্গলসহ এতদঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ তাদের স্বাভাবিক যাতায়াতের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এখানে আসেন। সড়ক যোগাযোগের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে যাত্রীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পর্যটনশিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা নিম্নলিখিত তিন দফা দাবি পেশ করেন: প্রথমত, হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস সার্ভিস পূর্বের ন্যায় শ্রীমঙ্গল শহরে যাত্রী ওঠা-নামার সুযোগ পুনর্বহাল করতে হবে,
কোন পরিবহন ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে কোন এলাকার সাধারণ যাত্রীদের পরিবহন সুবিধা বন্ধ করা যাবে না, শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জগামী যাত্রীদের জন্য নিয়মিত, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব বিরতিহীন বাস সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয় সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। ভুক্তভোগীরা স্পষ্ট করেন, এই দাবি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; এটি সাধারণ যাত্রীদের অধিকার ও জনস্বার্থের পক্ষে।
Leave a Reply