
শ্রীমঙ্গলের শ্রমিক নেতা লুৎফুর রহমানের ওপর হামলার ২ নম্বর আসামি চায়না রিপন গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক,শ্রীমঙ্গল:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রীমঙ্গল শাখার সহ-সভাপতি লুৎফুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ২ নম্বর আসামি রিপন মিয়া ওরফে ‘চায়না রিপন’(২৮)-কে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাপলাবাগ রেল ক্রসিং সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ‘বিধান এন্ড বিধান ভ্যারাইটিজ স্টোর’-এর সামনে ও দোকানের ভেতরে শ্রমিক নেতা লুৎফুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।
এ ঘটনায় আহত লুৎফুর রহমানের মা মোছা. ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ‘চায়না রিপন’ শাপলাবাগ, সোনারবাংলা রোড ও রেলস্টেশন এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তুলে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। লুৎফুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনার পর সে আত্মগোপনে চলে যায়।
পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩১ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ সুরভীপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ‘ভুঁয়ার বাসা’ নামে পরিচিত একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া লিটন মিয়ার ঘর থেকে রিপন মিয়া ওরফে ‘চায়না রিপন’-কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রিপন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া গ্রামের আমিন মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ আরও জানায়, ‘চায়না রিপন’-এর বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন থানায় মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া লুৎফুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত আরও ৭ জন আসামিকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে আহত লুৎফুর রহমান শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেস মিডিয়াকে জানান,আমি মাদক ও পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি। আমার ওপর হামলার পরিকল্পনাকারী এবং মামলার ১ নম্বর আসামি রুয়েল মিয়াকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল,তবে তার কাছ থেকে কী তথ্য পাওয়া গেছে,সে বিষয়ে আমি অবগত নই। এখন মামলার-২নম্বর আসামি‘চায়না রিপন-কে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি,তাকে রিমান্ডে এনে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হোক এবং আমার ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হোক।
উল্লেখ্য,শ্রমিক নেতা লুৎফুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনাটি শ্রীমঙ্গলজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পর স্থানীয় শ্রমিক,ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply