
গো আপ ফাউন্ডেশন ও ফুটস্টেপসের উদ্যোগে বসিলা ৪০ ফিট খাল পুনরুদ্ধার,অংশ নিলেন ৬০০স্বেচ্ছাসেবী
পাঁচ দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্থাপন ১০টি ডাস্টবিন; আবেদনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে মেরামত সড়কবাতি
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা ৪০ ফিট খাল পুনরুদ্ধারে পাঁচ দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে গো আপ ফাউন্ডেশন ও ফুটস্টেপস বাংলাদেশ। গত ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত এ কর্মসূচিতে ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবী, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্জ্যকর্মী অংশ নেন।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সহযোগিতায় এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির সহায়তায় আয়োজিত এ কর্মসূচি ফুটস্টেপস বাংলাদেশের ‘চলো খাল বাঁচাই’ উদ্যোগের আওতায় পঞ্চম খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম।
আয়োজকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমে খালটির পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব ও পরিবেশদূষণের ঝুঁকি বাড়ছিল। এসব সমস্যা মোকাবিলায় খাল থেকে বর্জ্য অপসারণ, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং এলাকাটিকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলাই ছিল কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রতিদিন সংগৃহীত বর্জ্য ডিএনসিসির সহায়তায় অপসারণ করা হয়।
খাল পরিষ্কারের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে পরিচালনা করা হয় প্রচার কার্যক্রম। এ ছাড়া খালের পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত একটি রেলিং পুনর্নির্মাণ এবং এলাকাবাসীর বসার জন্য একটি বেঞ্চ স্থাপন করেন আয়োজকেরা।
কর্মসূচি চলাকালে এলাকার নষ্ট সড়কবাতির বিষয়টি ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নজরে আনা হয়। আয়োজকদের দাবি, বিষয়টি জানানোর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সড়কবাতিগুলো মেরামত করা হয়।
ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের খাল, নদী ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ঢাকা গড়ে তুলতে ডিএনসিসির চলমান উদ্যোগগুলোর সঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, খাল পুনরুদ্ধারকে জাতীয় অগ্রাধিকারে নিয়ে আসার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তরুণ ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব, বসিলা ৪০ ফিট খালের কার্যক্রম তারই উদাহরণ।
তিনি বলেন, একসময় খালটির আশপাশ মাদক বিক্রি এবং মশা ও ডেঙ্গুর প্রজননস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পর এলাকায় মানুষের চলাচল ও বসার পরিবেশ উন্নত হয়েছে এবং মশার উপদ্রব কমেছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ খান আরও জানান, খাল পুনরুদ্ধারের কাজকে টেকসই করতে গো আপ ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে স্থাপিত ডাস্টবিন, পুনর্নির্মিত রেলিং ও বেঞ্চের দেখভাল, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ঢাকার অন্যান্য খাল পুনরুদ্ধারে ডিএনসিসির সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
আয়োজকেরা বলেন, শুধু খাল পরিষ্কার করাই নয়, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ জন্য নাগরিকদের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং খাল দূষণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সিটি ব্যাংক পিএলসি, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবী, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্জ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আয়োজকেরা।
উল্লেখ্য, গো আপ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের একটি অলাভজনক সংগঠন। শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সংগঠনটি।
Leave a Reply